ইসলামী গান রচনার কৌশল পর্ব– ১ -মারিফুল ইসলাম

1


ইসলামী গান রচনার কৌশল পর্ব– ১ 

-মারিফুল ইসলাম

-------------------------------------------

গান লেখার এবং শেখার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ছন্দ। তাই, শুরুতেই আমরা গানের ছন্দ এবং ছন্দ সংশ্লিষ্ট বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন থেকে শেখা শুরু করবো ।

ছন্দঃ- কাব্যের শ্রুতিমধুর বাক্যে সুশৃঙ্খল স্বরবিন্যাসের ফলে যে সৌন্দর্য সৃষ্টি হয় তাকে ছন্দ বলে।

অর্থাৎ, কবি তার কবিতার স্বরগুলোকে যে সুশৃঙ্খল বিন্যাসে বিন্যস্ত করে তাতে এক বিশেষ ধ্বনিসুষমা দান করেন, যার ফলে কবিতাটি পড়ার সময় পাঠক এক ধরনের ধ্বনিমাধুর্য উপভোগ করেন, ধ্বনির সেই সুশৃঙ্খল বিন্যাসকেই ছন্দ বলা হয়।

যেমন –

আমার জীবন আমার মরণ আমার জিন্দেগি

ইয়া ইলাহি কবুল করো আমার বন্দেগি।

বিভিন্ন প্রকার ছন্দ সম্পর্কে জানার পূর্বে ছন্দের কিছু উপকরণ সম্পর্কে জেনে নেয়া জরুরি। আর ছন্দ সম্পর্কে পড়ার আগে আরেকটা জিনিস মাথায় রাখা দরকার- ছন্দ সর্বদা উচ্চারণের সাথে সম্পর্কিত, বানানের সঙ্গে নয়।

পর্বঃ- গানে ব্যবহৃত প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তাল বা অংশকে পর্ব বলা হয়। যেমনঃ-

আমার জীবন/ আমার মরণ/ আমার জিন্দে/ গি

ইয়া ইলাহি/ কবুল করো/ আমার বন্দে/ গি।

এখানে আমার জীবন, আমার মরণ, আমার জিন্দে, গি - প্রতিটিই একেকটি পর্ব; মানে প্রতিটি চরণে ৪টি করে পর্ব।

অন্তমিলঃ- গানে ব্যবহৃত একটি পঙক্তির শেষ পর্বের সাথে আরেকটি পঙক্তির শেষ পর্বের যে মিল থাকে তাকেই অন্ত্যমিল বলে। যেমনঃ-

আমার জীবন/ আমার মরণ/ আমার জিন্দে/ গি

ইয়া ইলাহি/ কবুল করো/ আমার বন্দে/ গি।

এখানে, প্রথম পঙক্তির শেষ পর্বটি হচ্ছে জিন্দেগির গি এবং দ্বিতীয় পঙক্তির শেষ পর্বটি হচ্ছে বন্দেগির গি।

সুতরাং এই গানে জিন্দেগি এবং বন্দেগি শব্দদুটোই হচ্ছে এই গানের অন্তমিল।

অক্ষরঃ- (বাগযন্ত্রের) স্বল্পতম প্রয়াসে বা এক ঝোঁকে শব্দের যে অংশটুকু উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বা স্বর বলে। এই অক্ষর অনেকটাই ইংরেজি Syllable-র মত। যেমনঃ-

আমার- আ, মার- ২ অক্ষর

জীবন- জী, বন- ২ অক্ষর

জিন্দেগি- জিন, দে, গি- ৩ অক্ষর

অক্ষর বা স্বর মূলত দুই প্রকার –

১/ মুক্তাক্ষর বা মুক্তস্বর

২/ রুদ্ধাক্ষর বা বদ্ধস্বর

মুক্তাক্ষর বা মুক্তস্বরঃ- যেসব স্বর বা অক্ষর স্বাধীনভাবে পড়া যায়, কোথাও আটকে যেতে হয় না তাকে মুক্তাক্ষর বা মুক্তস্বর

বলে।

যেমন –

করো = ক......, রো...... এখানে দুটি উচ্চারণ। সুতরাং দুটি অক্ষর। এবং দুটি অক্ষরই স্বাধীন এবং মুক্তভাবে পড়া যায়, তাই দুটি অক্ষরই মুক্তাক্ষর।

রুদ্ধাক্ষর বা বদ্ধস্বর ঃ যেসব স্বর বা অক্ষর স্বাধীনভাবে পড়া যায় না, কোথাও আটকে যেতে হয়, তাকে রুদ্ধাক্ষর বা বদ্ধস্বর

বলে।

যেমন –

জীবন = জী......, বন...... এখানে দুটি উচ্চারণ। সুতরাং দুটি অক্ষর। এবং প্রথম অক্ষরটি স্বাধীন এবং মুক্তভাবে পড়া যায়, তাই এটি মুক্তাক্ষর এবং দ্বিতীয় অক্ষরটি স্বাধীনভাবে পড়া যায়না বরং উচ্চারণের সময় আটকে যেতে হয় তাই এটি রুদ্ধাক্ষর।

মাত্রাঃ- একটি অক্ষর উচ্চারণে যে সময় প্রয়োজন হয়, তাকে মাত্রা বলে। বাংলায় এই মাত্রাসংখ্যার নির্দিষ্ট নয়, একেক ছন্দে একেক অক্ষরের মাত্রাসংখ্যা একেক রকম হয়। মূলত, এই মাত্রার ভিন্নতাই বাংলা ছন্দগুলোর ভিত্তি। বিভিন্ন ছন্দে মাত্রাগণনার রীতি বিভিন্ন ছন্দের আলোচনায় দেয়া থাকবে।

(চলবে)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

এই পোস্ট সংক্রান্ত আপনার মূল্যবান কমেন্টটি করার জন্য “মাসিক গীতিকবিতার“ পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলো।

এই পোস্ট সংক্রান্ত আপনার মূল্যবান কমেন্টটি করার জন্য “মাসিক গীতিকবিতার“ পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Responsive GIF
Responsive GIF
Responsive GIF
মাসিক গীতিকবিতা ওয়েবসাইটে আপনাকে সু-স্বাগতম।
Accept !