ভাই ভাগ
-এস এ বিপ্লব
----------------------------
আমরা সর্বদাই দেখে থাকি বা শুনে থাকি যে, জনক, জননী কে তার সন্তানরা ভাগ করে রেখে থাকে। দেখা যায় যে, কারো তিন সন্তান আছে তো বাবা - মা কে প্রত্যেক সন্তান চার মাস করে রাখবে। কারো বা বাবা থাকে না মা থকে কারো বা মা থাকে না বাবা থাকে। তখন বাবা বা মা যেই থাকুক না কেন সন্তানরা ভাগ করেই রাখে যেন। এগুলো বললে হয়তো অনেকে বলবে এতো পুরাতন কথা সবারই জানা। তাই নতুন কথা দিয়েই শুরু করব।
বাবা- মা কে ভাগ করার কথা সবাই শুনেছি, দেখেছি। কিন্তু কখনো কি ভাই ভাগ করার কথা শুনেছি।আমার বন্ধু সাজ, ওর তিনকুলে ভাই ছাড়া আর কেউ ছিল না। তার ভাইয়েরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। বাবা- মা, অর্থ, জমিজমা, নাথিং কিছু বলতে কিছুই ছিল না। তাই এমন অবস্থায় পরিণত হয়েছে। আজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মরণ পথ যেন গুণে। ডাক্তার বলেছে কিডনি দুটো একেবারেই অচল।
অর্থ্যৎ কিডনী রোগে আক্রান্ত।সাথে এটা- ওটা জড়িত। অপারেশন করে কিডনি পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু কে দিবে এতো টাকা। এক ভাই আরেক ভাইকে বলে কত টাকা দিবে। এ ভাই সে ভাই কে বলে কত টাকা দিবে। ছোট ভাই বিছানায় মৃত্যু শয্যায় ভাইয়েরা টাকা ভাগ নিয়ে বসে থাকে হায়।
ছোট ভাই আবেগে যায় হারিয়ে, মনে মনে বলতে থাকে বাবা- মা না থাকলে যে সন্তানের কত কষ্ট তা নিজের জীবন দিয়ে বুঝে গেলাম। আসলে অনেকের চেয়ে বা পরের চেয়ে যে ভালো সে হলো ভাই। কিন্তু ভাইয়ের চেয়ে যে ভালো সে হলো বাবা। সাজের লেখা কবিতা বারবার স্মরণ করছে -- ছোট ভাইয়ের জীবন
হয়নি উন্নয়ন
যেদিক দিয়ে যায়
হয় শুধু পতন
তার চেয়ে ভালো হয়
যদি হয় মরণ
শেষ হলো ছোট ভাইয়ের জীবন
এগুলো বলতে বলতে কখন যে নিঃশ্বাস বের হয়ে গেল তা কেউ টের পায় নি। এভাবে টাকার অভাবে আর টাকার ব্যবস্থা করতে করতেই ছোট ভাই গেল চিরতরে।

এই পোস্ট সংক্রান্ত আপনার মূল্যবান কমেন্টটি করার জন্য “মাসিক গীতিকবিতার“ পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলো।
এই পোস্ট সংক্রান্ত আপনার মূল্যবান কমেন্টটি করার জন্য “মাসিক গীতিকবিতার“ পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলো।